দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

পটুয়াখালির কুয়াকাটা সৈকতে আবারও ভেসে এলো ৩৫ কেজি ওজনের অলিভ রিডলি প্রজাতির ১টি জীবিত কচ্ছপ।
শনিবার (১৬ মে) সকাল ১১টার দিকে কুয়াকাটা সৈকতের পূর্ব পাশে ডিসি পার্ক সংলগ্ন এলাকায় কচ্ছপটি দেখতে পান সৈকতের ফটোগ্রাফার মোহাম্মদ সাইফুল।
পরে বন বিভাগ এবং উপকূল পরিবেশ রক্ষা আন্দোলন (উপরা)-এর সমন্বয়ে কচ্ছপটির চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়।
এ ঘটনায় উপকূল পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনের (উপরা) যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল হোসেন বলেন, বারবার সামুদ্রিক প্রাণীর মৃত্যু অত্যন্ত উদ্বেগজনক। উপকূলীয় পরিবেশ রক্ষায় এখনই কার্যকর ও সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
ডলফিন ও কচ্ছপ রক্ষা কমিটির নথি অনুযায়ী, চলতি মাসেই কুয়াকাটা উপকূলে সাতটি মৃত কচ্ছপ ভেসে এসেছে। এর মধ্যে একটি সবুজ সামুদ্রিক কচ্ছপ এবং পাঁচটি অলিভ রিডলি প্রজাতির। প্রতিটির শরীরে ক্ষতচিহ্ন পাওয়া গেছে।
২০২০ সালে পাঁচটি, ২০২২ সালে নয়টি এবং ২০১৮ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত আট বছরে অন্তত ৩০টি মৃত কচ্ছপ কুয়াকাটা ও আশপাশের সৈকতে ভেসে এসেছে। এর মধ্যে অলিভ রিডলি, সবুজ সামুদ্রিক, হকসবিল, লগারহেড ও লেদারব্যাক প্রজাতির কচ্ছপ রয়েছে। এর মধ্যে আন্ধারমানিক নদী সংলগ্ন এলাকায় একটি জীবিত কচ্ছপও ভেসে এসেছিল।
স্থানীয় জেলেদের দাবি, অবৈধ ট্রলিংয়ে রাখা টোন জালের কারণে এসব সামুদ্রিক প্রাণী মারা যাচ্ছে। তারা আহত কচ্ছপ ও ডলফিনের চিকিৎসা এবং মৃত প্রাণীগুলোর বিষয়ে বৈজ্ঞানিক গবেষণার দাবি জানিয়েছেন।
পরিবেশ কর্মী কেএম বাচ্চু বলেন, বারবার আহ্বান সত্ত্বেও কচ্ছপ ও ডলফিনের মৃত্যুর কারণ উদঘাটন হয়নি। এদিকে জেলেদের সচেতনতাও জরুরি।
তিনি আরও বলেন, মৃত প্রাণীগুলোকে মাটি চাপা না দিয়ে মিউজিয়াম আকারে সংরক্ষণ করলে পর্যটকরাও উপকৃত হবেন।
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োলজি অ্যান্ড জেনেটিক্স ও মৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের অধ্যাপক রাজীব সরকার বলেন, বঙ্গোপসাগরে ব্যবহৃত অবৈধ ট্রলিং জালে কচ্ছপ ও ডলফিনসহ সামুদ্রিক প্রাণী আটকা পড়ে মারা যাচ্ছে। জেলেদের সচেতনতার পাশাপাশি বন ও মৎস্য অধিদপ্তরের মাধ্যমে কচ্ছপের পোনা অবমুক্ত করলে প্রজাতি সংরক্ষণ সম্ভব।
বন বিভাগের কুয়াকাটা ক্যাম্পের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রুবেল হোসেন বলেন, কুয়াকাটা উপকূলে ভেসে আসা কচ্ছপ, ডলফিন ও অন্যান্য সামুদ্রিক প্রাণীর মৃত্যু জীববৈচিত্র্যের জন্য মারাত্মক হুমকি। এ বিষয়ে সরকারি-বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর আরও এগিয়ে আসা প্রয়োজন।
তিনি জানান, উদ্ধার হওয়া জীবিত কচ্ছপটির চিকিৎসা চলছে এবং সুস্থ হলে সমুদ্রে অবমুক্ত করা হবে।
সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, উপকূলীয় সমুদ্রের পানিতে ১৭৯ ধরনের মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত হয়েছে, যা সামুদ্রিক কচ্ছপের মৃত্যুর অন্যতম কারণ হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, জরুরি ভিত্তিতে কচ্ছপের নিরাপদ অভয়ারণ্য গড়ে না তুললে এ প্রজাতির অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়বে।
/অ